অষ্টম শ্রেণি বাংলা ২০২৫ | তৈলচিত্রের ভূত: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
তৈলচিত্রের ভূত
মানিক
বন্দ্যোপাধ্যয়
একদিন সকাল বেলা পরাশর ডাক্তার
নিজের প্রকাণ্ড লাইব্রেরিতে বসে চিঠি লিখছিলেন। চোরের মতো নিঃশব্দে ঘরে ঢুকে নগেন
ধীরে ধীরে এগিয়ে গিয়ে তার টেবিল ঘেঁষে দাঁড়াল। পরাশর ডাক্তার মুখ না তুলেই
বললেন, 'বোসো, নগেন।'
চিঠিখানা শেষ করে খামে ভরে ঠিকানা
লিখে চাকরকে ডেকে সেটি ডাকে পাঠিয়ে দিয়ে তবে আবার নগেনের দিকে তাকালেন।
‘বসতে
বললাম যে! এ রকম চেহারা হয়েছে কেন?
অসুখ নাকি ? নগেন
ধপ করে একটা চেয়ারে বসে পড়ল। চোরকে যেন জিজ্ঞাসা করা হয়েছে সে চুরি করে কি না, এইরকম
অতিমাত্রায় বিব্রত হয়ে সে বলল,
'না না, অসুখ
নয়, অসুখ
আবার কিসের ?
গুরুতর কিছু ঘটেছে সে বিষয়ে
নিঃসন্দেহ হয়ে পরাশর ডাক্তার দুহাতের আঙুলের ডগাগুলি একত্র করে নগেনকে দেখতে
লাগলেন। মোটাসোটা হাসিখুশি ছেলেটার তেল চকচকে চামড়া পর্যন্ত যেন শুকিয়ে গেছে, মুখে হাসির
চিহ্নটুকুও নেই। চাউনি একটু উদভ্রান্ত। কথা বলার ভঙ্গি পর্যন্ত কেমন খাপছাড়া হয়ে
গেছে।
নগেন তার মামাবাড়িতে থেকে কলেজে
পড়ে। মাস দুই আগে নগেনের মামার শ্রাদ্ধের নিমন্ত্রণ রাখতে গিয়ে পরাশর ডাক্তার
নগেনকে দেখেছিলেন। এই অল্প সময়ের মধ্যে এমন কী ঘটেছে যাতে ছেলেটা এরকম বদলে যেতে
পারে? ছেলেবেলা
থেকে মামাবাড়িতেই সে মানুষ হয়েছে বটে কিন্তু মামার শোকে এরকম কাহিল হয়ে পড়ার
মতো আকর্ষণ তো মামার জন্য তার কোনো দিন ছিল না। বড়লোক কৃপণ মামার যে ধরনেরআদর
বেচারি চিরকাল পেয়ে এসেছে তাতে মামার পরলোক যাত্রায় তার খুব বেশি দুঃখ হবার কথা
নয়। বাইরে মামাকে খুব শ্রদ্ধাভক্তি দেখালেও মনে মনে নগেন যে তাকে প্রায়ই যমের
বাড়ি পাঠাত তাও পরাশর ডাক্তার ভালো করেই জানতেন। পড়ার খরচের জন্য দুশ্চিন্তা
হওয়ার কারণও নগেনের নেই,
কারণ শেষ সময়ে কী ভেবে তার মামা তার নামে মোটা টাকা উইল করে রেখে গেছেন ।
নগেন হঠাৎ কাঁদো কাঁদো হয়ে বলল,
'ডাক্তার কাকা, সত্যি
করে একটা কথা বলবেন? আমি কি
পাগল হয়ে গেছি? পরাশর
ডাক্তার একটু হেসে বললেন,
'তোমার মাথা হয়ে গেছ । পাগল হওয়া কি মুখের কথা রে বাবা! পাগল যে হয় অত সহজে
সে টের পায় না সে পাগল হয়ে গেছে !’ “
তবে —— দ্বিধা ভরে খানিকক্ষণ চুপ
করে থেকে হঠাৎ নগেন যেন মরিয়া হয়ে জিজ্ঞাসা করে বসল, 'আচ্ছা ডাক্তার
কাকা, প্রেতাত্মা
আছে ?'
‘প্রেতাত্মা মানে তো ভূত? নেই।' ‘নেই? তবে –’ অনেকক্ষণ ইতস্তত করে, অনেক ভূমিকা করে, অনেকবার শিউরে উঠে নগেন ধীরে ধীরে আসল ব্যাপারটা খুলে বলল। চমকপ্রদ অবিশ্বাস্য কাহিনি । বিশ্বাস করা শক্ত হলেও পরাশর ডাক্তার বিশ্বাস করলেন। মিথ্যা গল্প বানিয়ে তাকে শোনাবার ছেলে যে নগেন নয়, তিনি তা জানতেন।
মামা তাকেও প্রায় নিজের ছেলেদের
সমান টাকাকড়ি দিয়ে গেছেন জেনে প্রথমটা নগেন একেবারে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল।
মামার এরকম উদারতা সে কোনোদিন কল্পনাও করতে পারে নি। বাইরে যেমন ব্যবহারই করে
থাকুন, মামা
তাকে নিজের ছেলেদের মতোই ভালোবাসতেন জেনে পরলোকগত মামার জন্য আন্তরিক
শ্রদ্ধাভক্তিতে তার মন ভরে গেল। আর সেই সঙ্গে জাগল এরকম দেবতার মতো মানুষকে সারা
জীবন ভক্তি-ভালোবাসার ভান করে ঠকিয়েছে ভেবে দারুণ লজ্জা আর অনুতাপ। শ্রাদ্ধের দিন
অনেক রাত্রে বিছানায় শুতে যাওয়ার পর অনুতাপটা যেন বেড়ে গেল— শুয়ে শুয়ে সে
ছটফট করতে লাগল। হঠাৎ এক সময় তার মনে হলো,
সারা জীবন তো ভক্তি-শ্রদ্ধার ভান করে মামাকে সে ঠকিয়েছে, এখন যদি সত্য
সত্যই ভক্তি-শ্রদ্ধা জেগে থাকে লাইব্রেরি ঘরে মামার তৈলচিত্রের পায়ে মাথা ঠেকিয়ে
প্রণাম করে এলে হয়তো আত্মগ্লানি একটু কমবে,
মনটা শান্ত হবে।
রাত্রি তখন প্রায় তিনটে বেজে গেছে, সকলে আলো
নিভিয়ে শুয়ে পড়েছে, বাড়ি
অন্ধকার। এত রাত্রে ঘুমানোর বদলে মামার তৈলচিত্রের পায়ে মাথা ঠেকিয়ে প্রণাম করার
জন্য বিছানা ছেড়ে উঠে যাওয়াটা যে রীতিমতো খাপছাড়া ব্যাপার হবে সে জ্ঞান নগেনের
ছিল। তাই কাজটা সকালের জন্য স্থগিত রেখে সে ঘুমোবার চেষ্টা করল। কিন্তু তখন তার
মাথা গরম হয়ে গেছে। মন একটু শান্ত না হলে যে ঘুম আসবার কোনো সম্ভাবনা নেই, কিছুক্ষণ এপাশ
ওপাশ করার পর সেটা ভালো করেই টের পেয়ে শেষকালে মরিয়া হয়ে সে বিছানা ছেড়ে উঠে
পড়ল ।
লাইব্রেরিটি নগেনের দাদামশায়ের
আমলের। লাইব্রেরি সম্পর্কে নগেনের মামার বিশেষ কোনো মাথাব্যথা ছিল না। তার আমলে গত
ত্রিশ বছরের মধ্যে লাইব্রেরির পিছনে একটি পয়সাও খরচ করা হয়েছে কি না সন্দেহ।
আলমারি কয়েকটি অল্প দামি আর অনেক দিনের পুরোনো, ভেতরগুলি বেশির ভাগ অদরকারি বাজে বইয়ে ঠাসা এবং ওপরে
বহুকালের ছেঁড়া মাসিকপত্র আর নানা রকম ভাঙাচোরা ঘরোয়া জিনিস গাদা করা । টেবিলটি
এবং চেয়ার কয়েকটি খুব সম্ভব অন্য ঘর থেকে পেনশন পেয়ে এ ঘরে স্থান পেয়েছে।
দেয়ালে তিনটি
বড় বড় তৈলচিত্র, সস্তা
ফ্রেমে বাঁধানো কয়েকটা সাধারণ রঙিন ছবি ও ফটো টাঙানো। তা ছাড়া কয়েকটা পুরানো
ক্যালেন্ডারের ছবিও আছে—কোনোটাতে ডিসেম্বর,
কোনোটাতে চৈত্রমাসের বারো তারিখ লেখা কাগজের ফলক এখনো ঝুলছে।
তৈলচিত্রের একটি নগেনের
দাদামশায়ের, একটি
দিদিমার এবং অপরটি তার মামার। দাদামশায় আর দিদিমার তৈলচিত্র দুটি একদিকের দেয়ালে
পাশাপাশি টাঙানো আছে, মামার
তৈলচিত্রটি স্থান জুড়ে আছে পাশের দেয়ালের মাঝামাঝি ।
কারো ঘুম ভেঙে যাবে ভয়ে নগেন আলো
জ্বালে নি। কিন্তু তাতে তার কোনো অসুবিধা ছিল না, ছেলেবেলা থেকে এ বাড়ির আনাচ-কানাচের সঙ্গে তার পরিচয়।
লাইব্রেরিতে ঢুকে অন্ধকারেই সে মামার তৈলচিত্রের কাছে এগিয়ে গেল । অস্ফুট স্বরে
‘আমায় ক্ষমা করো মামা'
বলে যেই সে তৈলচিত্রের পায়ের কাছে আন্দাজে স্পর্শ করেছে—বর্ণনার এখানে পৌঁছে
নগেন শিউরে চুপ করে গেল। তার মুখ আরও বেশি ফ্যাকাশে হয়ে গেছে, দুচোখ
বিস্ফারিত
‘তারপর?’
নগেন ঢোক গিলে জিভ দিয়ে ঠোঁট চেটে
বলল, 'যেই
ছবি ছুঁয়েছি ডাক্তার কাকা,
কে যেন আমাকে জোরে ধাক্কা দিয়ে ঠেলে ফেলে দিল। সমস্ত শরীর ঝনঝন করে উঠল, তারপর আর কিছু
মনে নেই। জ্ঞান হতে দেখি,
সকাল হয়ে গেছে, আমি
মামার ছবির নিচে মেঝেতে পড়ে আছি ।'
পরাশর ডাক্তার গম্ভীর মুখে জিজ্ঞাসা করলেন, 'তোমার আগে কোনো দিন ফিট হয়েছিল নগেন ?’ নগেন মাথা
নেড়ে বলল 'ফিট? না, কস্মিনকালেও
আমার ফিট হয় নি। আপনি ভুল করেছেন ডাক্তার কাকা, এ ফিট নয়;
মরলে তো মানুষ সব জানতে পারে,
মামাও জানতে পেরেছেন টাকার লোভে আমি মিথ্যা ভক্তি দেখাতাম। তাই ছবি ছোঁয়ামাত্র
রাগে ঘেন্নায় আমাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়েছিলেন। সবটা শুনুন আগে, তা হলে বুঝতে
পারবেন।
সমস্ত সকাল নগেন মড়ার মতো
বিছানায় পড়ে রইল। এই চিন্তাটাই কেবল তার মনে ঘুরপাক খেতে লাগল, ভক্তি
ভালোবাসার ছলনায় টাকা আদায় করে নিয়েছে বলে পরলোকে গিয়েও তার ওপর মামার এমন
জোরালো বিতৃষ্ণা জেগেছে যে তার তৈলচিত্রটি পর্যন্ত তিনি তাকে স্পর্শ করতে দিতে
রাজি নন। যাই হোক, নগেন
একালের ছেলে, প্রথম
ধাক্কাটা কেটে যাবার পর তার মনে নানারকম দ্বিধা-সন্দেহ জাগতে লাগল। কে জানে রাত্রে
যা ঘটেছে তা নিছক স্বপ্ন কিনা। ধৈর্য ধরতে না পেরে দুপুরবেলা সে আবার লাইব্রেরিতে
গিয়ে মামার তৈলচিত্র স্পর্শ করে প্রণাম করল। একবার যদি মামা রাগ দেখিয়ে থাকেন, আবার দেখাবেন
না কেন? এবার
কিছুই ঘটল না। শরীরটা অবশ্য খুব খারাপ হয়ে আছে, মেঝেতে ধাক্কা যেখানে লেগেছিল মাথার সেখানটা ফুলে টনটন করছে
এবং সকালে লাইব্রেরিতে মামার তৈলচিত্রের নিচে মেঝেতেই তার জ্ঞান হয়েছিল। কিন্তু
এতে বড়জোর প্রমাণ হয়,
রাত্রে ঘুমের মধ্যেই হোক আর জাগ্রত অবস্থাতেই হোক লাইব্রেরিতে গিয়ে সে একটা
আছাড় খেয়েছিল। নিজের তৈলচিত্রে ভর করে মামাই যে তাকে ধাক্কা দিয়েছিলেন তার কী
প্রমাণ আছে? নগেন
যেন স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে বাঁচল। কিন্তু বেশিক্ষণ তার মনের শাস্তি টিকল না।
রাত্রে আলো নিভিয়ে বিছানায় শুয়েই হঠাৎ তার মনে পড়ে গেল, তার তো ভুল
হয়েছে ! দিনের বেলা তাকে ধাক্কা দেয়ার ক্ষমতা তো তার মামার এখন নেই, রাত্রি ছাড়া
তার মামা তো এখন কিছুই করতে পারেন না! কী সর্বনাশ! তবে তো রাত্রে আরেকবার
মামার তৈলচিত্র না ছুঁয়ে কাল রাত্রের ব্যাপারকে স্বপ্ন বলা যায় না ৷ এত রাত্রে
আবার লাইব্রেরিতে যাওয়ার কথা ভেবেই নগেনের হৃৎকম্প হতে লাগল। কিন্তু এমন একটা
সন্দেহ না মিটিয়েই বা মানুষের চলে কী করে?
খানিকটা পরে নগেন আবার লাইব্রেরিতে হাজির । ভয়ে বুক কাঁপছে, ছুটে পালাতে
ইচ্ছে হচ্ছে, কিন্তু
কী এক অদম্য আকর্ষণ তাকে টেনে নিয়ে চলেছে মামার তৈলচিত্রের দিকে। ঘরে ঢুকেই সে
সুইচ টিপে আলো জ্বেলে দিল। মটকার পাঞ্জাবির ওপর দামি শাল গায়ে মামা দেয়ালে
দাঁড়িয়ে আছেন। মাথায় কাঁচা-পাকা চুল,
মুখে একজোড়া মোটা গোঁফ,
চোখে ভর্ৎসনার দৃষ্টি। নগেন এগিয়ে গিয়ে মামার পায়ের কাছে ছবি স্পর্শ করল।
কেউ তাকে ঠেলে সরিয়ে দিল না,
কিন্তু সমস্ত শরীর হঠাৎ যেন কেমন অস্থির-অস্থির করতে লাগল। তৈলচিত্র থেকে কী
যেন তার মধ্যে প্রবেশ করে ভেতর থেকে তাকে কাঁপিয়ে তুলছে।
তবু নগেন যেন বাঁচল। ভয়ের জন্য
শরীর এরকম অস্থির অস্থির করতে পারে। সেটা সামান্য ব্যাপার । ফিরে যাওয়ার সময়
আলোটা নিভিয়েই নগেন আবার থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল। তার আরেকটা কথা মনে এসেছে। কাল ঘর
অন্ধকার ছিল, আজ
আলোটা থাকার জন্য যদি মামা কিছু না করে থাকেন? নগেনের ভয় অনেকটা কমে গিয়েছিল, অনেকটা
নিশ্চিন্ত মনেই সে অন্ধকারে তৈলচিত্রের কাছে ফিরে গেল। সে জানে অন্ধকারে তৈলচিত্র
স্পর্শ করলেও কিছু হবে না। ঘরে একটা আলো জ্বলছে কি জ্বলছে না তাতে বিশেষ কী আসে
যায়? ইতস্তত
না করেই সে সোজা তৈলচিত্রের দিকে হাত বাড়িয়ে দিল। পরক্ষণে—
“ঠিক
প্রথম রাত্রের মতো জোরে ধাক্কা দিয়ে মামা আমায় ফেলে দিলেন ডাক্তার কাকা।'
‘অজ্ঞান
হয়ে গেলে ?'
‘না, একেবারে অজ্ঞান
হয়ে যাই নি। অবশ্য আচ্ছন্নের মতো অনেকক্ষণ মেঝেতে পড়েছিলাম, কিন্তু জ্ঞান
ছিল। তারপর থেকে আমি ঠিক পাগলের মতো হয়ে গেছি ডাক্তার কাকা। দিনরাত কেবল এই কথাই
ভাবি। রোজ কতবার ঠিক করি বাড়ি ছেড়ে কোথাও পালিয়ে যাব, কিন্তু যেতে
পারি না, কীসে
যেন আমায় জোর করে আটকে রেখেছে।
পরাশর ডাক্তার খানিক্ষণ ভেবে
জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তারপর
আর কোনোদিন ছবিটা ছুঁয়েছ?'
“কতবার।
দিনে ছুঁয়েছি, রাত্রে
ছুঁয়েছি, আলো
জ্বেলে ছুঁয়েছি, অন্ধকারে
ছুঁয়েছি। ঠিক ওইরকম ব্যাপার ঘটে। দিনে বা রাত্রে আলো জ্বেলে ছুঁলে কিছু হয় না, অন্ধকারে
ছোঁয়ামাত্র মামা আমাকে ঠেলে দেন। সমস্ত শরীর যেন ঝনঝনিয়ে ঝাঁকানি দিয়ে ওঠে।
কোনোদিন অজ্ঞান হয়ে যাই,
কোনোদিন জ্ঞান থাকে।
বলতে বলতে নগেন যেন একেবারে ভেঙে
পড়ল, 'আমি কী
করব ডাক্তার কাকা? এমন
করে কদিন চলবে?'
পরাশর ডাক্তার বললেন, 'তার দরকার হবে
না। আমি সব ঠিক করে দেব। আজ সকলে ঘুমিয়ে পড়লে রাত্রি ঠিক বারোটার সময় তুমি
বাইরের ঘরে আমার জন্য অপেক্ষা কোরো,
আমি যাব।'
একটু থেমে আবার বললেন, 'ভূত বলে কিছু
নেই, নগেন।
তবু মাঝরাত্রে অন্ধকার লাইব্রেরিতে
পরাশর ডাক্তার মৃদু একটু অস্বস্তি বোধ করতে লাগলেন। এ ঘরে বাড়ির লোক খুব কম আসে।
ঘরের বাতাসে পুরোনো কাগজের একটা ভাপসা গন্ধ পাওয়া যায়। নগেন শক্ত করে তার একটা
হাত চেপে ধরে কাঁপছে। কীসের ভয়?
ভূতের? তৈলচিত্রের
ভূতের? ভূতে
যে একেবারে বিশ্বাস করে না,
যার বদ্ধমূল ধারণা এই যে যত সব অদ্ভূত অথচ সত্য ভূতের গল্প শোনা যায় তার
প্রত্যেকটির সাধারণ ও
স্বাভাবিক কোনো ব্যাখ্যা আছেই আছে,
ছবির ভূতের অসম্ভব আর অবিশ্বাস্য ভূতের ঘরে পা দিয়ে তার কখনো কি ভয় হতে পারে? তবু অস্বস্তি
যে বোধ হচ্ছে সেটা অস্বীকার করার উপায় নেই। নগেন যে কাহিনি শুনিয়েছে, সারা দিন ভেবেও
পরাশর ডাক্তার তার কোনো সঙ্গত ব্যাখ্যা কল্পনা করতে পারেন নি। একদিন নয়, একবার নয়, ব্যাপারটা
ঘটেছে অনেকবার। দিনে তৈলচিত্র নিস্তেজ হয়ে থাকে, রাত্রে তার তেজ বাড়ে। কেবল তাই নয়, অন্ধকার না হলে
সে তেজ সম্পূর্ণ প্রকাশ পায় না। আরও একটা কথা, রাত্রি বাড়ার সঙ্গে তৈলচিত্র যেন বেশি সজীব হয়ে উঠতে
থাকে। প্রথম রাত্রে নগেন অন্ধকারে স্পর্শ করলে ছবি নগেনের হাতটা শুধু ছিটকিয়ে
সরিয়ে দিয়েছে, মাঝরাত্রে
স্পর্শ করলে এত জোরে তাকে ধাক্কা দিয়েছে যে মেঝেতে আছড়ে পড়ে নগেনের জ্ঞান লোপ
পেয়ে গেছে ।
অশরীরী শক্তি কল্পনা করা ছাড়া এ
সমস্তের আর কী মানে হয়?
হয়—নিশ্চয় হয়; মনে মনে নিজেকে
ধমক দিয়ে পরাশর ডাক্তার নিজেকে এই কথা শুনিয়ে দিলেন। তারপর চোখ তুলে তাকালেন
দেয়ালের যেখানে নগেনের মামার তৈলচিত্রটি ছিল। এ ঘরে তিনি আগেও কয়েকবার এসেছেন, তৈলচিত্রগুলির
অবস্থান তার অজানা ছিল না। যা চোখে পড়ল তাতে পরাশর ডাক্তারের বুকটাও ধড়াস করে
উঠল। তৈলচিত্রের ওপরের দিকে দুটি উজ্জ্বল চোখ তার দিকে জ্বলজ্বল করে তাকিয়ে আছে ।
চোখ দুটির মধ্যে ফাঁক প্রায় দেড় হাত ।
ঠিক এই সময় নগেন ফিসফিস করে বলল, 'আলোটা জ্বালব
ডাক্তার কাকা ?'
পরাশর ডাক্তার তার গলার আওয়াজ
শুনেই চমকে উঠলেন—‘না।
রাস্তা অথবা পাশের কোনো বাড়ি থেকে
সরু একটা আলোর রেখা ঘরের দেয়ালে এসে পড়েছে। তাতে অন্ধকার কমে নি, মনে হচ্ছে যেন
সেই আলোটুকুতে ঘরের অন্ধকারটাই স্পষ্ট দেখতে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র।
নগেন আবার ফিসফিস করে বলল, 'একটা কথা
আপনাকে বলতে ভুলে গেছি ডাক্তার কাকা। দাদামশায় আর দিদিমার ছবি তাঁরা মরবার পর করা
হয়েছিল, কিন্তু
মামার ছবিটা মরবার আগে মামা নিজে শখ করে
আঁকিয়েছিলেন। হয়তো সেই জন্যেই '
নগেনের শিহরণ স্পষ্ট টের পাওয়া
যায়। ‘ভয় পেয়ে গেছেন ?’
দাঁতে দাঁত লাগিয়ে পরাশর ডাক্তার
তৈলচিত্রের দিকে এগিয়ে গেলেন। কাছাকাছি যেতে জ্বলজ্বলে চোখ দুটির জ্যোতি যেন অনেক
কমে গেল। হাত বাড়িয়ে দিতে প্রথমে তার হাত পড়ল দেয়ালে। যত সাহস করেই এগিয়ে এসে
থাকুন, প্রথমেই
একেবারে নগেনের মামার গায়ে হাত দিতে তার কেমন দ্বিধা বোধ হচ্ছিল। পাশের দিকে হাত
সরিয়ে তৈলচিত্রের ফ্রেম স্পর্শ করা মাত্র বৈদ্যুতিক আঘাতে যেন তার শরীরটা ঝনঝন
করে উঠল। অস্ফুট গোঙানির আওয়াজ করে পেছন দিকে দু পা ছিটকে দিয়ে তিনি মেঝেতে বসে
পড়লেন ।
পরক্ষণে ভয়ে অর্ধমৃত নগেন আলোর
সুইচ টিপে দিল।
মিনিট পাঁচেক পরাশর ডাক্তার চোখ
বুজে বসে রইলেন, তারপর
চোখ মেলে মিনিট পাঁচেক একদৃষ্টে তাকিয়ে রইলেন নগেনের মামার রুপার ফ্রেমে বাঁধানো
তৈলচিত্রটির দিকে।
তারপর তীব্র চাপা গলায় তিনি বললেন, 'তুমি একটি আস্ত
গর্দভ নগেন।রাগ একটু কমলে পরাশর ডাক্তার বলতে লাগলেন, 'গাধাও তোমার
চেয়ে বুদ্ধিমান। এত কথা বলতে পারলে আমাকে আর এই কথাটা একবার বলতে পারলে না যে
তোমার মামার ছবিটা ইতিমধ্যে রুপার ফ্রেমে বাঁধানো হয়েছে আর ছবির সঙ্গে লাগিয়ে
দুটো ইলেকট্রিক বাল্ব ফিট করা হয়েছে ?
‘আমি কি জানি! ছ মাস আগে যেমন দেখে গিয়েছিলাম, আমি ভেবেছিলাম ছবিটা এখানে তেমনি অবস্থাতেই আছে।'
“ইলেকট্রিক
শক খেয়ে বুঝতে পারো না কীসে শক লাগল,
তুমি কোনদেশি ছেলে?
আমি তো শক খাওয়া মাত্র টের পেয়ে গিয়েছিলাম তোমার মামার ছবিতে কোনো
প্রেতাত্মা ভর করেছেন।
নগেন উদ্ভ্রান্তের মতো বলল, 'রুপার ফ্রেমটা
দাদামশায়ের ছবিতে ছিল,
চুরি যাবার ভয়ে মামা অনেক দিন আগে সিন্দুকে তুলে রেখেছিলেন। মামার শ্রাদ্ধের
দিন মামিমা ফ্রেমটা বার করে মামার ছবিটা বাঁধিয়েছিলেন। আলো দুটো লাগিয়েছে আমার
মামাতো ভাই পরেশ ।
'হ্যাঁ।
সে এ বছর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হয়েছে। তাই বলল, এই সামান্য
কাজের জন্য ইলেকট্রিক মিস্ত্রিকে পয়সা দেব কেন ?”
পরাশর ডাক্তার একটু হেসে বললেন, ‘পরেশ তোমার
মামার উপযুক্ত ছেলেই বটে। কিছু পয়সা বাঁচানোর জন্য বাপের ছবিতে ভূত এনে ছেড়েছে।
এ খবরটা যদি আগে দিতে আমায় –
নগেন সংশয়ভরে বলল, 'কিন্তু ডাক্তার
কাকা –
পরাশর ডাক্তার রাগ করে বললেন, 'কিন্তু কী? এখনো বুঝতে
পারছ না। দিনের বেলা মেন সুইচ অফ করা থাকে,
তাই ছবি ছুঁলে কিছু হয় না,
ছবি মানে ছবির রুপার ফ্রেমটা। রুপার ফ্রেমটার নিচে কাঠফাট কিছু আছে, দেয়ালের সঙ্গে
যোগ নেই, নইলে
তোমাদের ইলেকট্রিকের বিল এমন হুহু করে বেড়ে যেত যে আবার কোম্পানির লোককে এসে
লিকেজ খুঁজতে হতো। তুমিও আবার ভূতের আসল পরিচয়টা জানতে পারতে । সন্ধ্যার পর
বাড়ির সমস্ত আলো জ্বলে আর বিদ্যুৎ তামার তার দিয়ে যাতায়াত করতে বেশি ভালোবাসে
কিনা, তাই সে
সময় ছবি ছুঁলে তোমার কিছু হয় না। এ ঘরের আলোটা জ্বাললেও তাই হয়। মাঝরাত্রে
বাড়ির সমস্ত আলো নিভে যায়,
তখন ছবিটা ছুঁলে আর কোনো পথ খোলা নেই দেখে বিদ্যুৎ অগত্যা তোমার মতো বোকা
হাবার শরীরটা দিয়েই –'
পরাশর ডাক্তার চুপ করে গেলেন। তার হঠাৎ মনে পড়ে গেছে, সুযোগ পেলে তার শরীরটা পথ হিসেবে ব্যবহার করতেও বিদ্যুৎ দ্বিধা করে না। তিনি হাঁফ ছাড়লেন। কপাল ভালো তড়িতাহত হয়ে প্রাণে মরতে হয়নি।
শব্দার্থ ও
টীকা
প্ৰকাণ্ড — অত্যন্ত বৃহৎ, অতিশয় বড়।
ব্ৰিত — ব্যতিব্যস্ত, বিপন্ন, বিচলিত।
উদ্ভ্রান্ত — বিহ্বল, দিশেহারা, হতজ্ঞান ৷
খাপছাড়া — বেমানান, উদ্ভট, অসংলগ্ন, এলোমেলো।
শ্রাদ্ধ — মৃত ব্যক্তির
আত্মার শান্তির জন্য শ্রদ্ধা নিবেদনের হিন্দু আচার বা শাস্ত্রীয় অনুষ্ঠান ।
উইল —শেষ ইচ্ছেপত্র । মৃত্যুর পরে সম্পত্তি বণ্টন বিষয়ে মালিকের
ইচ্ছানুসারে প্রস্তুত ব্যবস্থাপত্র বা
দানপত্র, যা তার
মৃত্যুর পরে বলবৎ হয়।
প্রেতাত্মা — মৃতের আত্মা, ভূত ।
অনুতাপ — আফসোস, কৃতকর্ম বা
আচরণের জন্য অনুশোচনা, পরিতাপ
তৈলচিত্র — তেলরঙে আঁকা ছবি।
প্ৰণাম — হাত ও মাথা
দ্বারা গুরুজনের চরণ স্পর্শ করে অভিবাদন।
আত্মগ্লানি — নিজের ওপর
ক্ষোভ ও ধিক্কার, অনুতাপ, অনুশোচনা ।
বিস্ফারিত — বিস্তারিত, প্রসারিত।
কস্মিনকালে — কোনো কালে বা
কোনো কালেই।
ছলনা —কপটতা, শঠতা, প্রতারণা, প্রবঞ্চনা, ধোঁকা ।
হৃৎকম্প — হৃৎপিণ্ডের
স্পন্দন, বুকের
কাঁপুনি ।
মটকা — রেশমের মোটা
কাপড় ।
ভর্ৎসনা — তিরস্কার, ধমক, নিন্দা ।
ইতস্তত —দ্বিধা, সংকোচ, গড়িমসি ।
অশরীরী —দেহহীন, শরীরহীন, নিরাকার ।
পাঠের উদ্দেশ্য
ভূতে বিশ্বাস নিয়ে মানুষের মধ্যে
যে কুসংস্কার বিরাজমান,
তা ভিত্তিহীন, কাল্পনিক
ও অন্তঃসারশূন্য। বিজ্ঞানসম্মত বিচারবুদ্ধির মাধ্যমে এই কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাস
সহজেই দূর করা সম্ভব। গল্পটি পড়ে শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে ভয়মুক্ত, কুসংস্কারমুক্ত
ও সচেতন হবে।
পাঠ-পরিচিতি
‘তৈলচিত্রের
ভূত' মানিক
বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা একটি কিশোর-উপযোগী ছোটগল্প। ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দের
ফেব্রুয়ারি মাসে ‘মৌচাক'
পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এ গল্পটি। ভূতে বিশ্বাস নিয়ে মানুষের মধ্যে বিরাজমান
কুসংস্কার যে ভিত্তিহীন,
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এ গল্পে তা তুলে ধরেছেন। এ গল্পে তিনি দেখিয়েছেন
বিজ্ঞানবুদ্ধির জয়। কুসংস্কারাচ্ছন্নতার কারণে মানুষ নানা অশরীরী শক্তির প্রতি
বিশ্বাস স্থাপন করে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু মানুষকে যদি বিজ্ঞানচেতনা দিয়ে
ঘটনা-বিশ্লেষণে উদ্বুদ্ধ করা যায় তাহলে ঐসব বিশ্বাসের অন্তঃসারশূন্যতা ধরা পড়ে।
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এ গল্পে নগেন চরিত্রের মধ্যে ভূত-বিশ্বাসের স্বরূপ ব্যাখ্যা
করেছেন । অন্যদিকে পরাশর ডাক্তার বিজ্ঞানসম্মত বিচারবুদ্ধির মাধ্যমে স্পষ্ট করে
তুলেছেন নগেনের বিশ্বাস ও কুসংস্কারের ভিত্তিহীনতাকে। মৃত ব্যক্তির আত্মা ভূতে
পরিণত হয়— এরকম বিশ্বাস সমাজে প্রচলিত থাকায় নগেন বৈদ্যুতিক শককে ভূতের কাজ বলে
সহজে বিশ্বাস করেছে। অন্যদিকে পরাশর ডাক্তার সবকিছু যুক্তি দিয়ে বিচার করেন বলে
তার কাছে বৈদ্যুতিক শকের বিষয়টি সহজেই ধরা পড়েছে।
লেখক-পরিচিতি
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত
নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। 'মানিক' তাঁর ডাকনাম।
১৯০৮ সালে সাঁওতাল পরগনার দুমকা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক বাড়ি ঢাকার
বিক্রমপুরে। কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে ছাত্র থাকা অবস্থায় ১৯২৮ সালে তাঁর প্রথম
গল্প ছাপা হয়। লেখালেখির কারণে বি. এসসি পরীক্ষায় পাশ করতে পারেন নি। তাঁর
বিখ্যাত উপন্যাস 'পদ্মানদীর
মাঝি' অবলম্বনে
চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। এই উপন্যাসে তিনি জেলেদের কথা বলতে গিয়ে শোষক ও শোষিত
দুই শ্রেণির চিত্র এঁকেছেন। এছাড়া 'দিবারাত্রির
কাব্য', ‘অহিংসা’, ‘পুতুলনাচের
ইতিকথা', তাঁর
উল্লেখযোগ্য উপন্যাস। তিনি বিজ্ঞানের ছাত্র ছিলেন। তাঁর লেখার প্রবণতা ছিল মানুষের
মন-বিশ্লেষণ করা। ১৯৫৬ সালে তিনি কলকাতায় মারা যান ।
কৰ্ম-অনুশীলন
ক. ৪০০ শব্দের মধ্যে মজা পাওয়ার
মতো একটি ভূতের গল্প লেখ (একক কাজ) ।
খ. আমাদের সমাজে ভূত ছাড়াও অন্য কী কী কুসংস্কার আছে—সেগুলোর তালিকা করে টীকা লেখ (একক কাজ)। (যাত্রার সময় হাঁচি, যাত্রার সময় পেছন থেকে ডাকা, এক শালিক দেখা, খালি কলস দেখা, কাক ডাকা ইত্যাদি কুসংস্কারের বিরুদ্ধে বিজ্ঞানভিত্তিক যুক্তি উপস্থাপন)
অনুশীলনী
বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
১. নগেন কার বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করত?
ক. মাসির খ. পিসির
গ. মামার ঘ. দাদার
২. নগেনের সাথে পরাশর ডাক্তারের প্রথম দেখা হয় কখন ?
ক. ২ মাস আগে খ. ৩ মাস আগে
গ. ৪ মাস আগে ঘ. ৫ মাস আগে
৩. মৃত মামার ছবি নগেনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিল কেন?
ক. জীবিত মামার প্রতি নগেনের ভক্তি ও শ্রদ্ধা ছিল না।
খ. মামার মৃত্যুর আগেই ছবিটি আঁকা হয়েছিল
গ. ছবির রুপার ফ্রেমে বৈদ্যুতিক সংযোগ ছিল
ঘ. নগেন ভূতকে খুব ভয় পেত
উদ্দীপকটি পড় এবং ৪ ও ৫ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও :
আদনান সন্ধ্যাবেলা হাসপাতাল থেকে
বাড়ি ফিরছিল। এক সময় মনে হলো তার পেছনে পেছনে কেউ হাঁটছে। সে পেছনে ফিরে তাকায়
কিন্তু কিছুই দেখতে পায় না। ফলে সে ভয়ে কাঁপছিল। এমন সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে সে
জোরে চিৎকার দিয়ে ওঠে। তার মা বাতি নিয়ে ছুটে এসে দেখেন আদনানের পায়ের জুতার
তলে পেরেক গাঁথা একটা কাঠি । এতক্ষণে আদনান ভয়ের কারণ খুঁজে পায় ।
৪. উদ্দীপকের আদনান-এর সাথে ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের নগেনের সাদৃশ্যের কারণ-
ক. তাদের বয়স কম খ. তারা অন্ধকারকে ভয় করত
গ. তারা ভীষণ ভিতু ছিল ঘ. তারা ভূত দেখেছিল
৫. এরূপ সাদৃশ্যের মূলে কোনটি বিদ্যমান?
ক. বাস্তবজ্ঞানের অভাব খ. প্রকৃত শিক্ষা না পাওয়া
গ. মানসিক বিকাশ না হওয়া ঘ. সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারা
সৃজনশীল প্রশ্ন
রফিক সাহেব শীতের ছুটিতে ভাগ্নি সাহানাকে নিয়ে গ্রামে বেড়াতে যান। রাতের আকাশ দেখার জন্য তারা খোলা মাঠে যান। অদূরেই দেখতে পান মাঠের মধ্যে হঠাৎ এক প্রকার আলো জ্বলে উঠে তা সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। ওটা কিসের আলো তা জানতে চাইলে সাহানার মামা বলেন,
ভূতের! সাহানা ভয় পেয়ে তার মামাকে জড়িয়ে ধরে। মামা তখন তাকে বুঝিয়ে বলেন যে, খোলা মাঠের মাটিতে এক প্রকার গ্যাস থাকে- যা বাতাসের সংস্পর্শে এলে জ্বলে ওঠে। সাহানা বিষয়টা বুঝতে পেরে স্বাভাবিক হয়।
ক. ‘তৈলচিত্রের ভূত’ কোন জাতীয় রচনা?
খ. পরাশর ডাক্তার নগেনকে ভর্ৎসনা করলেন কেন?
গ. উদ্দীপকের সাহানা আর ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের নগেনের বিশেষ মিল কোথায়? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “রফিক সাহেব আর ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পের পরাশর ডাক্তার উভয়কে আধুনিক মানসিকতার অধিকারী বলা যায়?” উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ করো।
No comments